সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নে ‘টিআর-২৬’ নামীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে এক মাদ্রাসাছাত্রকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম মারুফ (১৫) সোনাগাজী উপজেলার উত্তর লক্ষ্মীপুর এলাকার ইউসুফ হাজী বাড়ির জাফর উল্লাহর ছেলে এবং লক্ষ্মীপুর রহমানিয়া মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় মারুফের বাবা জাফর উল্লাহ বাদী হয়ে থানায় এজাহার দিয়েছেন।
এজাহারে কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য রামচন্দ্রপুর এলাকার পাটোয়ারী বাড়ির মকসুদ মিয়ার ছেলে অনয় পাটোয়ারী (১৭), মির্জাপুর খোনার বাড়ির মো. সোহাগের ছেলে স্বপ্নীল (১৬), উত্তর মঙ্গলকান্দি এলাকার কালাম ডাক্তার বাড়ির পারভেজ আক্তারের ছেলে তুরান (১৫), রাজাপুর এলাকার সওদাগর বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে রাহুল (১৬), মির্জাপুর এলাকার খোনার বাড়ির জাফর আহমেদের ছেলে হাবিব খোন্দকার ওরফে শিহাব (২৫), শরীফ চৌধুরী মুন্না ওরফে ছোট মুন্নাসহ (২০) আরও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা মঙ্গলকান্দি এলাকার ‘টিআর-২৬’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। কয়েক মাস আগে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখি হলে ওই পোস্টে মারুফ লাইক দিলে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। পরে গত ৩০ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে মারুফ বক্তারমুন্সী মোয়াজ্জেম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলা দেখতে যাওয়ার পথে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে বক্তারমুন্সী এলাকার তাকিয়া রোডের পাশে একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। যার একটি ভিডিও শনিবার (১৩ জুন) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কিশোর মিলে একজন শিক্ষার্থীকে ঘিরে ধরে কিল-ঘুষি ও লাথি মারছে। ওই শিক্ষার্থী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে তাকে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে মামলা অথবা সামাজিকভাবে কাউকে অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তাই ভয়ে মারুফ বিষয়টি পরিবারকে জানায়নি এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘টিআর-২৬’ নামে পরিচিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, মারামারি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও সোনাগাজীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, ওই গ্রুপ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলাজুড়ে একই ধরনের একাধিক গ্রুপের সক্রিয়তা বেড়েছে।
এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশিম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাটির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সকাল থেকে অভিযান পরিচালনা করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
