ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের কামাল্লা এলাকায় সিলোনিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবিতে আবারও সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নদীটির ওপর চলাচলে সেতু নির্মিত না হওয়ায় কামাল্লা, নোয়াপুরসহ আশপাশের ছয়টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখনো চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়রা নদীর পাড়ে জড়ো হয়ে সংসদ সদস্য, এলজিইডি ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি তোলেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ।
স্থানীয় মনছুরুল হক পাটোয়ারী (সাবু মেম্বার) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই পাড়ের মানুষ সীমাহীন কষ্ট করছে। কেউ মারা গেলে পর্যন্ত নদী পারাপার করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কামাল্লা গ্রামের মাওলানা আবদুর রহিম ও নুর মোহাম্মদ জানান, একটি সেতুর অভাবে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী ও শিশুদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
নোয়াপুরের বাসিন্দা শেখ আহাম্মদ বলেন, নির্বাচনের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন আমরা সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির নেতা গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ জানান, সম্প্রতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে (পিআইও) সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সিলোনিয়া নদী কামাল্লা, বদরপুর, পৈথারা, নোয়াপুর, করইয়া ও উত্তর শ্রীপুর এই ছয়টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগে দীর্ঘদিন ধরে বাধা হয়ে আছে। ২০২৩ সালে নতুন মুন্সীরহাট থেকে কামাল্লা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণ কাজ শুরু হলেও সিলোনিয়া নদীর পাড়ে এসে তা থেমে যায়। এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি সড়কের দুই-তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন করলেও সেতু না থাকায় পুরো প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর “নতুন মুন্সীরহাট-কামাল্লা সড়ক এনেছে স্বস্তি” শিরোনামে দৈনিক ফেনী পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সড়ক নির্মাণ হলেও সেতু না থাকায় এখনো বিচ্ছিন্ন কামাল্লা অংশ, ফলে কাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনগণ। ওই প্রতিবেদনে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, সিলোনিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে অগ্রগতি হবে বলে জানিয়েছিলেন।
