যতটা ভালো হলে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা খুশি হতেন, ঠিক ততটাই মধুর হলো লিওনেল মেসিদের বিশ্বকাপের শুরুটা।

কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতেছে ৩–০ গোলে। ৩টি গোলই করেছেন মেসি। এই হ্যাটট্রিকের পথে মেসি গড়েছেন রেকর্ড, দিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপেও দারুণ কিছুর বার্তাও।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের হাতে লাগলেও শেষ পর্যন্ত জালে জড়ায়।

জাতীয় দলের হয়ে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নামা মেসির পরের ২টি গোল দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ ও ৭৬ মিনিটে। আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের শট থেকে ফিরতি বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান ২-০ করেন। ১৬ মিনিট পর বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক শটে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক।

এই ৩ গোলে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। কিলিয়ান এমবাপ্পে, গার্ড মুলার ও রোনালদো নাজারিওকে ছাড়িয়ে হয়ে গেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তাঁর মতো ১৬ গোল আছে মিরোস্লাভ ক্লোসারও। পরের লক্ষ্য নিশ্চয়ই রেকর্ডটা নিজের করে নেওয়া। এর বিপক্ষে কেউ বাজি ধরতে রাজি হবেন বলে মনে হয় না।

রোনালদোকে ছাড়িয়ে

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আরেকটি বিশেষ রেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা সবচেয়ে বয়সী ফুটবলার এখন তিনি (৩৮ বছর ৩৫৭ দিন)। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দখলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা।

রোনালদোর একটি রেকর্ড ভেঙেছেন, ছুঁয়েছেন আরেকটি। পাঁচটি ভিন্ন আসরে গোল করার রেকর্ডে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। গত বিশ্বকাপে এই রেকর্ড গড়েছিলেন রোনালদো। তাঁর ছিল টানা পাঁচ বিশ্বকাপে গোল। মেসি গোল করেছেন ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে। ব্যতিক্রম শুধু ২০১০ আসর।

৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়সী গোলদাতাদের তালিকায়ও ৩ নম্বরে উঠে এসেছেন মেসি। তাঁর সামনে আছেন শুধু ক্যামেরুনের রজার মিলা ও পর্তুগালের পেপে।

মেসির আবেগ

ম্যাচে প্রথম গোল করার পর উদ্‌যাপনের সময় টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে আবেগঘন এক মুহূর্ত। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের চোখে তখন জল। হয়তো বিশ্বকাপে নিজের শেষ যাত্রার প্রথম ম্যাচে গোল করার আনন্দ কিংবা আরেকটি স্বপ্নের পথে যাত্রার অনুভূতি—সব মিলিয়ে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির এমন শুরুতে যেন নতুন করে উৎসবে মেতেছে আর্জেন্টিনা। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে বরাবরের মতোই ছিলেন মেসি।