আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আর মাত্র ৪দিন বাকী রয়েছে। ফেনীর ৩টি সংসদীয় আসনে ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফেনীতে এসে পৌঁছেছে ভোটের সরঞ্জাম। নির্বাচনে নিরাপত্তায় প্রস্তুত রয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীতে ৩টি সংসদীয় আসনে মোট ৪২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১২৫টি কেন্দ্রকে সাধারণ, ২৪৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপুর্ণ এবং ৫৫টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দাপ্তরিকভাবে কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ বললেও ভোটারদের কাছে এসব কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিজিবির ও র‌্যাব সদস্যের পাশাপাশি পুলিশের ৪৫টি মোবাইল টিম, ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া-ফুলগাজী-পরশুরাম) আসনে ১২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে ছাগলনাইয়া ৫৪টি ভোটকন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৫টি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৪০টি এবং সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৯টি। পরশুরামে ৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৮টি ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২৩টি। এছাড়া ফুলগাজীতে ৩৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হচ্ছে ১২টি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২১টি ও সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৩টি।

ফেনী-২ (সদর আসনে) মোট ১৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৭টি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১৩১টি ও সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৮টি।

নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে মোট ১৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে দাগনভূঞায় ৭৮টি এবং সোনাগাজীতে ৮৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। দাগনভূঞায় ৭৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হচ্ছে ১৫টি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১৫টি এবং সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৪৮টি। সোনাগাজীতে ৮৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৮টি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৫৭টি।

সুষ্ঠভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণে প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দৈনিক ফেনীকে জানান, নির্বাচন কমিশনের নিদেশনা অনুযায়ী অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারসহ ১৫জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ১৩জন দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনমত বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

নির্বাচনী কার্যক্রম নিরাপত্তায় থাকবে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি ছাড়াও র‌্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে।

এ ব্যাপারে ফেনী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন জানান, নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ব্যালট বক্স ইতোমধ্যে ফেনীতে এসেছে। ভোটগ্রহণের আগের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো হবে। নির্বাচনে সুষ্ঠভাবে ভোটগ্রহণের জন্য প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফেনীতে নির্বাচনে ৪৪৮জন প্রিসাইডিং অফিসার ও ২৪৩৯ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ৪ হাজার ৮৭৮জন পোলিং এজেন্ট থাকবে।

নিরাপত্তায় প্রতিটি কেন্দ্রে থাকছে সিসি ক্যামেরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর ৩টি আসনে সুষ্ঠভাবে ভোটগ্রহণে ৪২৮টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে থাকছে সিসি ক্যামেরা। নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ, অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেন শর্মা জানান, ৪২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে কয়েকটি ছাড়া সকল কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। প্রথমে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভোটররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারে সেজন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইয়েদ মো. আনোয়ার খালেদ জানান, ফেনী-২ আসনে ১৪৬টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া-ফুলগাজী-পরশুরাম) আসনে ১২১টি কেন্দ্রে, ফেনী-২ (সদর আসনে) মোট ১৪৬টি কেন্দ্রে ও ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে মোট ১৬১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে ১২৫টি কেন্দ্রকে সাধারণ, ২৪৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপুর্ণ এবং ৫৫টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও কঠোর হতে হবে’
ফেনীতে সংসদ নির্বাচনে শঙ্কার কথা বলছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেনী-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ফেনীতে বেশিরভাগ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে জানিয়েছি। ফেনীতে অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে আমাদের সহযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে এবং সেই সব সন্ত্রাসীর অস্ত্র এখন হাতবদল হয়েছে। তাই অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা প্রণয়নের জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় যারা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও করেছি। এসব বিষয়ে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, ফেনীতে ৪২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০০-এর বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে এবং নিরাপত্তা পেলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে উৎসাহ পাবে। প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করলে নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যালট পেপার এবং ভোটের সিল তৈরির হিড়িক দেখা যাচ্ছে। ফেনীতে ৪২৮টি কেন্দ্রকেই আমাদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। প্রশাসন নিরাপত্তার বিষয়ে বলছে। তবে কেন্দ্রগুলোতে তৈরিকৃত ব্যালট ও সিল ব্যবহারের শঙ্কার কথা জানান বিএনপির এ নেতা।